যে ভিটামিনের অভাবে শরীরে বেশি শীত অনুভূত হয়। Health Tips, Vitamin Deficiency, Wellness
যে ভিটামিনের অভাবে শরীরে বেশি শীত অনুভূত হয়।
![]() |
"আপনি কি অন্যদের তুলনায় একটু বেশিই শীত অনুভব করেন? সবসময় কাঁপুনি বা হাত-পা ঠান্ডা হয়ে থাকা কেবল আবহাওয়ার কারণে না-ও হতে পারে। শরীরে নির্দিষ্ট কিছু ভিটামিন ও খনিজের অভাব থাকলে এমনটি হয়। জেনে নিন কোন ভিটামিনগুলোর ঘাটতি আপনার শীতকাতরতা বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং এর সহজ সমাধান কী।"
"শীতের সকাল কিংবা হিমেল হাওয়া—সবাই যখন আবহাওয়া উপভোগ করছে, তখন কি আপনার অস্বাভাবিকভাবে বেশি শীত লাগছে? একই ঘরে বসে বাকিরা যখন স্বাভাবিক অনুভব করছে, তখন আপনাকে হয়তো সোয়েটার বা চাদর মুড়ি দিয়ে থাকতে হচ্ছে।
অনেকেই একে কেবল 'শীতকাতরতা' বলে এড়িয়ে যান। কিন্তু আপনি কি জানেন, আপনার শরীরের এই অতিরিক্ত শীত অনুভূত হওয়া কোনো সাধারণ বিষয় না-ও হতে পারে? চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, শরীরে নির্দিষ্ট কিছু ভিটামিন এবং খনিজের অভাব থাকলে আমাদের স্নায়ু এবং রক্তসঞ্চালন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়, যার ফলে আমরা অন্যদের চেয়ে বেশি শীত অনুভব করি।
আজকের ব্লগে আমরা আলোচনা করব ঠিক কোন ভিটামিনগুলোর অভাবে আপনার শরীরে এই কাঁপুনি ভাব তৈরি হচ্ছে এবং কীভাবে খুব সহজে খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে আপনি এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন।"
শরীরে অতিরিক্ত শীত অনুভূত হওয়ার পেছনে প্রধানত ভিটামিন বি-১২ (Vitamin B12)-এর অভাবকে দায়ী করা হয়। এই ভিটামিন রক্তে লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করে, যার ঘাটতি হলে রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া দেখা দেয় এবং শরীরে অক্সিজেন পরিবহন কমে যায় । ফলে শরীর ভেতর থেকে দুর্বল হয়ে পড়ে এবং হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়াসহ সব সময় শীত শীত বোধ হতে পারে।
ভিটামিন বি-১২ ছাড়াও আরও কিছু পুষ্টি উপাদানের অভাবে শীত বেশি লাগতে পারে:
আয়রন (Iron): আয়রনের অভাবে অ্যানিমিয়া হয় এবং এটি থাইরয়েডের কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে, যা শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা সৃষ্টি করে।
ভিটামিন বি-৯ বা ফোলেট (Folate): এটিও রক্তকণিকা তৈরিতে ভূমিকা রাখে; এর অভাবে রক্তস্বল্পতা হয়ে শীত অনুভূত হতে পারে।
ভিটামিন ডি (Vitamin D): পর্যাপ্ত সূর্যের আলোর অভাবে শরীরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি হলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং শরীর বেশি ঠান্ডা মনে হতে পারে।
ম্যাগনেসিয়াম ও জিংক: এই খনিজ উপাদানগুলোর ঘাটতি রক্ত সঞ্চালন এবং বিপাক প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটায়, যা শীত লাগার কারণ হতে পারে
যদি আপনি স্বাভাবিক তাপমাত্রায়ও অন্যদের তুলনায় বেশি শীত অনুভব করেন, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে আপনার ভিটামিন ও আয়রনের মাত্রা পরীক্ষা করা উচিত।
ভিটামিন বি১২ (Vitamin B12): এটি লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করে। এর অভাব হলে রক্তস্বল্পতা দেখা দেয় এবং শরীর দ্রুত ঠান্ডা হয়ে যায়।
আয়রন (Iron): রক্তে অক্সিজেনের প্রবাহ সচল রাখতে আয়রন জরুরি। আয়রনের ঘাটতি থাকলে মেটাবলিজম কমে যায়, ফলে শরীর গরম হতে পারে না।
ভিটামিন ডি (Vitamin D): হাড়ের পাশাপাশি শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণেও এর ভূমিকা আছে।
উপসংহার: সঠিক খাদ্যাভ্যাসেই মিলবে সমাধান
অতিরিক্ত শীত লাগার সমস্যাটি কেবল বাইরে থেকে গরম কাপড় পরলেই সমাধান হয় না, এর জন্য শরীরকে ভেতর থেকে শক্তিশালী করা প্রয়োজন। আপনার শরীরে যদি ভিটামিন বি১২ বা আয়রনের ঘাটতি থাকে, তবে নিচের খাবারগুলো আপনার নিয়মিত খাদ্যতালিকায় যোগ করতে পারেন:
| প্রয়োজনীয় উপাদান | খাবারের উৎস |
| ভিটামিন বি১২ | ডিম, দুধ, চিজ, মাছ (বিশেষ করে সামুদ্রিক মাছ) এবং মাংস। |
| আয়রন | পালং শাক, কচু শাক, ডাল, কলিজা, ডালিম এবং খেজুর। |
| ভিটামিন ডি | সূর্যালোক (সকাল ১০টা-৩টা), মাশরুম এবং কড লিভার অয়েল। |
